একাকি কখনও পথ চলি না মা ।
কিচনবাবু ও প্রভাতবাবু সব সময়
আমার সাথে থাকেন ।
: ,- - শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
বিদেহী প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী পার্থিব বাধাবন্ধ অতিক্রম করে
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের নিত্যসঙ্গী ছিলেন ।
সেটি শ্রীঠাকুরের নিজের শ্রীমুখে ব্যক্ত করেছেন ,
ভক্তমতী যশোদা দেবীর কাছে ।
( ঘটনাটি সংক্ষেপে )
ঠাকুরমশাই পাটনায় ডাক্তার যতীন্দ্র মোহন দাশগুপ্তের সহধর্মিণীর সহোদরা যশোদা দেবীর বাসভবনে
অবস্থান করেছেন ।
প্রতিদিন ঠাকুর সকালবেলা বেরিয়ে যান--
আর ফেরেন সন্ধ্যার অনেক পরে ।
যশোদা দেবী উৎ্কণ্ঠিতা হয়ে ভাবেন ,
দুর্বল শরীরে শ্রীঠাকুর এভাবে দিনের পর দিন একাকী ভ্রমণে যদি কিছু দূর্ঘটনা ঘটে তবে তিনি কি ভাবে খবর পাবেন ।
একদিন যশোদা দেবী সেই দুশ্চিন্তার কথা ব্যক্ত করাতে
শ্রীঠাকুর আশ্বাস দিলেন ,
" একাকী কখনও পথ চলি না মা " ।
" কিচনবাবু ও প্রভাতবাবু সব সময় আমার সঙ্গে থাকেন " ।
যশোদা দেবী ভাবলেন ,
বিদেহী ঐ দুইজন কি করে ঠাকুরমশাইর নিত্যসঙ্গী হন ?
কিচনবাবু দেহরক্ষা করেছেন ,
প্রভাতবাবুর দেহরক্ষার বহু বর্ষ পূর্বে ।
দ্বিধাগ্রস্থ মনে যশোদা দেবী উপস্থিত হইলেন ঠাকুরমশাইর
কাছে -- দুইজনেরই প্রিয় খাদ্যবস্তর নামগুলির নাম জেনে নিলেন ।
শ্রীঠাকুর উৎসাহিত হয়ে খাদ্যবস্তুর নামগুলিই শুধু নয় --
রন্ধন প্রণালীও বলে দিলেন ।
সেইদিন শ্রীঠাকুর আর সকালে বের হলেন না ।
চিরঅভুক্ত ঠাকুরের সেদিন প্রচন্ড ক্ষুধার উদ্রেক হয়েছে ।
বারে বারে রন্ধনশালায় গিয়ে যশোদা দেবীকে তিনি
ত্বরাম্বিত করছেন ।
বেলা বারটার পূর্বে যশোদা দেবী শ্রীঠাকুরকে ভোগ সাজিয়ে দিলেন ।
ঠাকুরের ডাইনে এবং বাঁয়ে দুইটি পৃথক পৃথক আসন
পাতা হইল ।
রাখা হইল উভয় ভক্তের বহুবিধ ভোজ্যবস্তু ।
শ্রীঠাকুরকে ডাকতে হইল না--
নিজেই এসে আসনে বসলেন ।
এতগুলি বাটির ও থালার সব ভোগবস্তু ঠাকুরমশাই নিঃশেষে গ্রহণ করলেন ।
কিছুই অবশিষ্ট রইলো না প্রসাদরূপে যশোদা দেবীর জন্য ।
যশোদা দেবী থালা বাটি ধোয়া জল একত্র করে নিঃশেষে
পান করে নিলেন ।
ক্ষুধাতৃষ্ণার উদ্রেক সেদিন যশোদা দেবী বোধ করলেন না ।
কিচনবাবু ও প্রভাতবাবু শ্রীঠাকুরের কত প্রিয় তা তিনি আজ উপলব্ধি করলেন ।
" জয়রাম "
শ্রীমতী প্রমীলা দত্ত ।
" মহাজীবনের কাহানী "
পৃষ্টা সংখ্যা ৯০ হইতে ।